প্রচ্ছদ

ঘরবন্দি কর্মহীন মানুষদের দিন কাটে ত্রাণের আশায় পথ চেয়ে

2020/04/Untitled-4-17.png

নীরব আতঙ্ক বিরাজ করছে সোনারগাঁওয়ে। সবার মুখেই শোনা যাচ্ছে পুঁজিপাট্টা নেই, কাজ নেই—খাব কী? করোনার কারণে ঘরবন্দি মানুষ খাদ্যের অভাবে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে।

সরকারি ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগেও বিচ্ছিন্নভাবে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এ ত্রাণ সীমিত। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হতদরিদ্র নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো ত্রাণের আশায় পথ চেয়ে বসে থাকে, এই চিত্র সর্বত্র। জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোও কাজ করে যাচ্ছে। কেউ খাবার নিয়ে এলেই অসংখ্য মানুষ ভিড় করে ত্রাণদাতাদের কাছে। কৃষ্ণপুরা গ্রামের রিকশাচালক আলী বলেন, যাত্রী নেই তাই রিকশা চালাতে পারছি না। পুঁজি যা ছিল তাও শেষ। এখন আমার পরিবারের লোক নিয়ে রাস্তায় বসার মতো অবস্থা। করোনা ভাইরাসের পাশাপাশি খাবার জোগানোর হাহাকারও তাদের দিশেহারা করে তুলেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম জানান, সোনারগাঁওয়ে তিন পর্বে সরকারি ত্রাণসামগ্রী এসেছে। এর মধ্যে এসেছে ১১.৫০ টন চাল এবং ৭০ হাজার টাকা। দ্বিতীয় এসেছে ১৫ টন চাল ও ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ নিয়ে সর্বমোট চাল এসেছে ৫৬.৫০ টন এবং টাকা এসেছে ২ লাখ ৪০ হাজার। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিভিন্ন ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণের পরেও ৩০ টন চাল মজুত রয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি আরো জানান, ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাসহ হতদরিদ্র, ভিক্ষুক, পঙ্গু, ভারাটিয়া, দুস্থ মানুষের নিয়ে ২৫ হাজারের একটি তালিকা তৈরি করার পরিকল্পনা করেছেন। এর মধ্যে আটটি ইউনিয়ন একটি পৌরসভা নিয়ে ১৯ হাজারের মতো তালিকা প্রস্তুত করেছেন। তবে বাকি দুটি ইউনিয়নের তালিকাও খুব দ্রুত সম্পন্ন করতে পারব।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা জানান , তিনি সরকারি ত্রাণসামগ্রী ছাড়াও নিজস্ব তহবিল থেকে একটি পৌরসভাসহ ১০টি ইউনিয়নে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। উপজেলায় মোট ৯৯টি ওয়ার্ড রয়েছে। ১০ জন কর্মী নিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে ত্রাণ বিতরণের জন্য একটি করে টিম গঠন করেছেন। উপজেলায় আইডি কার্ডধারী দরিদ্র পরিবার, ভিক্ষুক, ভাড়াটিয়া, দিনমজুরদের নিয়ে মোট ৩০ হাজার পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করার পরিকল্পনা করেছেন। এর মধ্যে ২২ হাজার পরিবারের তালিকা হাতে পেয়েছেন তিনি এবং পর্যায়ক্রমে তালিকার কাজ চলছে। বৈদ্যেরবাজার, জামপুর, পিরোজপুর ইউনিয়নের তালিকা অনুযায়ী ত্রাণসামগ্রী পৌঁছেছে। বাকি ইউনিয়নগুলোতেও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানোর কাজ চলছে।

স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো যারা ত্রাণ নিতে লজ্জা পাচ্ছেন তাদের জন্য দুটি হটলাইন কলের ব্যবস্থা চালু করেছেন। যে কেউ হটলাইনে কল করার সঙ্গে সঙ্গে কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিয়ে আসবেন। এ পর্যন্ত ১৭টি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন বলে তিনি জানান। তিনি আরো জানান, যতদিন পর্যন্ত করোনা ভাইরাস থেকে জনগণ মুক্ত না হবে ততদিন পর্যন্ত আমি মাঠে থাকব। পুলিশ ও সেনাবাহিনী এ সব কার্যক্রম থেকে পিছিয়ে নেই। তারা তাদের স্ব স্ব অবস্থানে থেকে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সূত্র: ইত্তফাক

মন্তব্য